পবিত্র Kaaba—যা মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনা—সবসময় আমরা কালো গিলাফে আবৃত অবস্থায় দেখি। কিন্তু একসময় এই গিলাফ ছিল না, আর খুব কম মানুষই কাবাকে তার প্রকৃত রূপে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৪০ সালের একটি বিরল ছবিতে কিসওয়া ছাড়া কাবার লাল ইটের গাঁথুনি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা ইতিহাসের এক অনন্য সাক্ষ্য হয়ে আছে।
কিসওয়ার ইতিহাস ও নির্মাণ ব্যয়
কাবার গিলাফ, যা কিসওয়া নামে পরিচিত, তৈরি করতে ব্যয় হয় প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ সৌদি রিয়াল। প্রায় ১০ মাসের নিরলস পরিশ্রমে এটি প্রস্তুত করা হয়। খাঁটি রেশম দিয়ে তৈরি এই গিলাফের মোট ওজন প্রায় ৬৭০ কেজি। এতে ব্যবহৃত হয় প্রায় ১০ কেজি সোনায় মোড়ানো রুপার সুতা, যার মাধ্যমে কোরআনের আয়াতগুলো সূক্ষ্ম নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়।
গঠন ও নকশার নিখুঁত কারুকাজ
কিসওয়া তৈরি হয় ৪৭টি বড় কাপড়ের খণ্ড দিয়ে। প্রতিটি খণ্ড প্রায় ১৪ মিটার লম্বা ও ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া। কিসওয়ার উপরের অংশে থাকা অলংকৃত বেল্টজুড়ে সূচিকর্মে লেখা থাকে পবিত্র আয়াত, যা পুরো কাবাকে ঘিরে রাখে। এই সূক্ষ্ম কারুকাজ সম্পন্ন হয় দক্ষ কারিগরদের নিখুঁত হাতের ছোঁয়ায়।
আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন
বর্তমানে কিসওয়াকে আরও টেকসই করতে এতে কেভলার উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে এটি উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ সহ্য করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তার সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখে।
প্রতিবছরের পরিবর্তনের ঐতিহ্য
প্রতি বছর ইসলামি বর্ষপঞ্জির শুরুতে মুহাররম মাসে নতুন কিসওয়া পরানো হয়। বিশেষ এক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুনটি স্থাপন করা হয়, যা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। আগে এই পরিবর্তন আরাফার দিন সম্পন্ন হতো, তবে ২০২২ সাল থেকে হিজরি নববর্ষে এটি পরিবর্তনের নিয়ম চালু হয়েছে।
বিশাল কারখানা ও দক্ষ কর্মী
কিসওয়া তৈরির জন্য রয়েছে একটি বিশেষায়িত কারখানা, যেখানে ২৪০ জনের বেশি দক্ষ কারিগর কাজ করেন। রং করা, ছাপা, সূচিকর্ম থেকে শুরু করে সেলাই—প্রতিটি ধাপে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ও আলাদা বিভাগ। এখানে বিশ্বের অন্যতম বড় সেলাই মেশিনও ব্যবহৃত হয়।
কিসওয়া শুধু একটি কাপড় নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও শ্রদ্ধার প্রতীক। আর গিলাফ ছাড়া কাবার বিরল দৃশ্য ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়, যা এই পবিত্র স্থাপনাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়।
