স্ক্রিনে বন্দী শৈশব, ঝুঁকিতে শিশুর চোখ

আজকের শহুরে জীবনে অনেক শিশুর শৈশব যেন চার দেয়ালের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। খোলা মাঠে দৌড়ঝাঁপ বা আঙিনায় খেলাধুলার বদলে তাদের সময় কাটছে মোবাইল বা টেলিভিশনের পর্দায়। ব্যস্ততার কারণে অভিভাবকরাও অনেক সময় শিশুদের হাতে ডিভাইস তুলে দিচ্ছেন, যা সাময়িকভাবে সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে নানা সমস্যার কারণ হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা প্রতিদিন গড়ে ২ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনে কাটায়। আর American Academy of Pediatrics-এর মতে, ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনোভাবেই স্ক্রিনে অভ্যস্ত করা উচিত নয়। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের চোখের ওপর চাপ পড়ে, এমনকি অল্প বয়সেই চশমা ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।

স্ক্রিন ব্যবহারে সতর্কতা

শিশু যদি স্ক্রিন দেখে, তাহলে ছোট মোবাইল বা ট্যাবের বদলে বড় পর্দা ব্যবহার করা তুলনামূলক ভালো। বড় স্ক্রিনে চোখের চাপ কিছুটা কম পড়ে, যদিও এটি পুরোপুরি ঝুঁকি দূর করে না।

পলক ফেলার গুরুত্ব

দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যেতে পারে এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর শিশুকে বিরতি নিতে উৎসাহিত করা জরুরি। চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে পলক ফেলা গুরুত্বপূর্ণ।

হেডফোন ব্যবহারে সতর্কতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের হেডফোন ব্যবহার করা উচিত নয়। বড় শিশুদের ক্ষেত্রেও ভলিউম ৫০% বা তার কম রাখা নিরাপদ, যাতে কানের ক্ষতি না হয়।

সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি থেকে শিশুদের পুরোপুরি দূরে রাখা সম্ভব না হলেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। খেলার সময়, পারিবারিক যোগাযোগ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ ও আনন্দময় শৈশব গড়ে ওঠে।

Scroll to Top