ভোলা জেলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে আরোপিত দুই মাসের সরকারি মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা প্রায় দুই লাখ জেলে আবারও নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অনেকেই জাল, ট্রলার ও মাছ ধরার সরঞ্জাম মেরামত করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মধ্যরাতের পর থেকেই তারা নদীতে নামবেন বলে জানিয়েছেন।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাতটি উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এসব জেলেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ভিজিএফ চাল ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
জেলেরা জানান, দুই মাস নদীতে না যেতে পেরে তারা চরম আর্থিক সংকটে ছিলেন। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য না করে নিয়ম মেনে চলেছেন। এখন নদীতে ফিরে ইলিশসহ পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার আশা করছেন তারা, যাতে আগের ঋণ ও ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।
অন্যদিকে স্থানীয় আড়ৎদাররাও নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তারা জানিয়েছেন, জেলেরা মাছ নিয়ে ফিরলে আবারও বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে এবং ব্যবসা সচল হবে।
বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এতে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, এবার জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যাতে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।
জেলেরা সরকারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ও জীবনমান উন্নয়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
