আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ আইনপ্রণেতার সাম্প্রতিক চিঠি। তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে। তাঁদের মতে, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি—কারণ জনগণের কণ্ঠস্বর কেবল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে পাঁচ মার্কিন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি এবং গত বছরের জুলাইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়। তবে এসব অপরাধকে ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য করে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে তাঁরা মত দিয়েছেন।

চিঠিতে আইনপ্রণেতারা লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করে অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার সংস্কার জরুরি বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, যদি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম স্থগিত করা হয় বা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চালু করা হয়, তবে গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।

তাঁরা আরও বলেন, সংগঠনের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা মৌলিক মানবাধিকার। কোনো একটি দলকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা এই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চিঠির শেষাংশে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান বা ভবিষ্যতের সরকার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

আইনপ্রণেতারা যুক্ত করেছেন, বাংলাদেশের মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দমতো সরকার গঠনের অধিকার রাখে। পাশাপাশি তাঁরা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আগামী মাসগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহযোগিতা করতে তাঁরা প্রস্তুত।

Scroll to Top