বাগেরহাটে বিএনপির প্রার্থী ঘিরে বিতর্ক, অতীত রাজনীতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট–মোল্লাহাট–চিতলমারী) এবং বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা–মোরেলগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া দুই নেতার অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বাগেরহাট-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়া কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) বাংলাদেশের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ অশ্বিনী সেবা আশ্রমের সভাপতি হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তিনি চিতলমারীর কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। তবে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ আসনে মনোনয়ন পাওয়া সোমনাথ দে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সভাপতি ও ভিএইচপি বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি। তিনি অতীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সংখ্যালঘুবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উপজেলা কমিটির সদস্য হন। গত বছরের আগস্টে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে সরে দাঁড়ান বলে জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল চলতি বছরের মার্চে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সোমনাথ দে-ও অতীতে একাধিক মামলায় কারাভোগ করেছেন। জেল থেকে মুক্তির পর গত ২০ আগস্ট তাঁরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিত্ব করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।

শনিবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে প্রার্থী ঘোষণার পরই বাগেরহাটের রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা লিখেছেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে অবহেলিত মনে করছেন। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা নেতারা উপেক্ষিত হয়ে নতুন মুখদের মনোনয়ন দেওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছে।

কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের পক্ষে কথা বলার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর ছবি রয়েছে, যা নিয়ে এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মামলার বিষয়টিও তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে সোমনাথ দে নিজের রাজনৈতিক অতীত স্বীকার করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও জেল খাটার ইতিহাস জেনেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে।

বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আওয়ামী লীগের পদধারী ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া তৃণমূলের জন্য কষ্টদায়ক। তিনি আরও কিছু আসনের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই, তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।

Scroll to Top