ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির ছাড়, রুমিন ফারহানার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে বিএনপি এবার নিজস্ব প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, যেসব আসনে জমিয়তের প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন, সেখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জোট প্রার্থীদের সমর্থনে খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট দিয়ে ধানের শীষকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার নাম দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। গত ৩ নভেম্বর ঘোষিত বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কারও নাম না থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, আসনটি জোটকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও রুমিন ফারহানা মাঠের রাজনীতি থেকে সরে যাননি। তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দেন। ১৯ ডিসেম্বর সরাইল উপজেলার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কা যাই হোক না কেন, সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে চান।

জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর রুমিন ফারহানার সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, দলের পক্ষ থেকে তাঁর রাজনৈতিক অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা বলেন, স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থে তাঁরা রুমিন ফারহানাকেই যোগ্য প্রার্থী মনে করেন এবং প্রয়োজনে তাঁকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করতে চান।

অন্যদিকে সরাইল উপজেলা বিএনপির নেতারা দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর দলীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

Scroll to Top