৭ অক্টোবর হামলার দায় এড়াতে নেতানিয়াহুকে অভিযুক্ত সাবেক মুখপাত্র

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দায় এড়ানোর পথ খুঁজছিলেন—এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাঁর সাবেক মুখপাত্র ইলাই ফেল্ডস্টাইন। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হামলার পর নেতানিয়াহুর প্রথম নির্দেশ ছিল কীভাবে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ইসরায়েলের ‘কান’ নিউজ চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক মুখপাত্র ইলাই ফেল্ডস্টাইন বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পরপরই নেতানিয়াহু তাঁকে সংবাদমাধ্যমে দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল বের করতে বলেন। ফেল্ডস্টাইনের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আতঙ্কিত ছিলেন এবং চেয়েছিলেন গণমাধ্যমে তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি যেন চাপা পড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ‘দায়বদ্ধতা’ শব্দটি ব্যবহার না হয়। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফেল্ডস্টাইন বর্তমানে দুটি বড় মামলার মুখোমুখি—গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগ এবং কাতারগেট কেলেঙ্কারি। প্রথমটিতে অভিযোগ, গাজায় জিম্মি হত্যার পর নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তিনি সামরিক তথ্য ফাঁস করেছিলেন। দ্বিতীয়টিতে অভিযোগ, কাতারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণে তিনি জড়িত ছিলেন।

৭ অক্টোবরের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২৫১ জন অপহৃত হয়। এর জবাবে ইসরায়েলের দীর্ঘ যুদ্ধ গাজায় প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, যাদের অর্ধেকই নারী ও শিশু। এই হামলাকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দায় এড়াতে নেতানিয়াহু স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে বাধা দিয়ে আসছেন।

Scroll to Top